Home  • Online Tips • Religious

পবিত্র কুরআনে প্রতিশ্রুত কেয়ামতের দৃশ্য !

না। আমি শপথ করছি (মহা বিশ্বের বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ভয়ংকর সেই) কিয়ামত দিবসের। আর না। আমি শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের। মানুষ কি মনে করে যে, (মরনের পর) আমি তার হাড় সমুহ একত্র করতে পারবো না ? কেন পারব না ? আমি তো তার আংগুলের জোড়াগুলো পর্যন্ত পূর্ন বিন্যস্ত করতে সক্ষম। (বিষয়টি অনুধাবন করার পরও) মানুষ ভবিষ্যতে মন্দকর্ম করতে চায়। (হে নবী আপনাকে বিব্রত করার জন্য অবিশ্বাসীরা) প্রশ্ন করে কখন আসবে প্রতিশ্রুত সেই কেয়ামত দিবস? (বলুন) অতপর মানুষের চক্ষু সমুহ (বন্ধ না হয়ে) যখন স্থির হয়ে যাবে। (সূর্যের পতনের ফলে) চন্দ্র যখন আলোহীন হয়ে যাবে। এবং চন্দ্র সূর্যকে একত্রিত করে (এক মহাবিষ্ফোরনের মাধ্যমে) ধ্বংশ করে দেওয়া হবে। ১০ (ভয়ংকর এই ধংশলীলা দেখে) সেদিন মানুষ বলতে থাকবে এখন পালাবার জায়গা কোথায় ? ১১ কখনো না, সেদিন (মানবজাতীর জন্য দুনিয়ায়) কোন আশ্রয় স্থল থাকবে না। ১২ সেদিন তোমার রবের সামনেই (সমগ্র মানবজাতীকে) জীবন কর্ম নিয়ে দন্ডায়মান হতে হবে। ১৩ সেদিন মানুষকে তার পূর্বের এবং পরের কৃত কর্মগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে। ১৪ যদিও মানুষ নিজের আমল সমুহকে ভাল ভাবেই জানে (আসলে সে কি দুনিয়ায় করে এসেছে) ১৫ সে (নিজের মন্দ আমল সমুহের ব্যপাড়ে) যতই অজুহাত পেশ করুক না কেন। ১৬ হে নবী। এ অহীকে আয়ত্ব করার জন্য তোমার জিহবাকে দ্রুত নাড়াচাড়া করোনা। ১৭ (পবিত্র এই কুরআন তোমাকে) মুখস্ত করিয়ে দেয়া আমারই দায়িত্ব। ১৮ তাই যখন কুরআন উচ্চারিত হয় তখন গভির মনযোগ দিয়ে তুমি শ্রবন করবে। ১৯ অতপর পবিত্র কুরআনের অর্থ সমুহ অনুধাবন করানো আমারই দায়িত্ব। ২০ কখনো না। আসলে তোমরা দ্রুত লাভ করা যায় জাগতিক এমন বস্তুকেই ভালবাস। ২১ এবং (ইহলোকের মোহে পরে) তোমরা আখেরাতের (অনন্ত অসীম জীবনকে) উপেক্ষা করে থাক। ২২ মহা বিচারের সেই (ভয়ংকর) দিন অল্প সংখ্যক চেহারা সজীব থাকবে। ২৩ তারা তাদের মহান রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। ২৪ আর কিছু সংখ্যক লোক থাকবে হতাসা গ্রস্থ (এবং চেহারা থাকবে) বিবর্ণ। ২৫ (আমলনামায় পর্যাপ্ত পাপ থাকায় তারা সুনিশ্চিত হবে) তাদের সঙ্গে আজ অত্যান্ত কঠোর আচরন করা হবে। ২৬ কখনো না। যখন মানুষের প্রান কন্ঠনালীতে এসে পরবে (ফলে তাদের অন্তর ফেটে পরার উপক্রম হবে) ২৭ এবং তারা বলতে থাকবে (কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য) এখন ঝাড় ফুক করার কেহ আছে কি ? ২৮ (ভয়ংকর সেই অন্তিম মুহুর্তে) মানুষ জেনে যাবে এখনই দুনিয়া থেকে অনন্ত বিদায় নেওয়ার সময়। ২৯ সেদিন মানুষের উভয়ের পায়ের গোছা একত্রিত হয়ে (এক জায়গায় স্থির হয়ে) যাবে। ৩০ সেদিন হবে তোমাদের মহান রবের নিকট অনন্ত যাত্রা করার দিন। ৩১ কিন্তু (হতভাগ্য মানুষ এই ভয়ংকর দিনের কথা জেনেও) সত্যকে অনুসরন করেনি এবং নামাজ আদায় করেনি। ৩২ বরং (অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর হুকুম মানতে অস্বীকার করেছে এবং নামাজ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ৩৩ তারপর সে দম্ভভরে (মহান ররেব হুকুম অমান্য করে) পরিবার পরিজনের নিকট ফিরে গিয়েছে। ৩৪ এই আচরন তোমার মত পাপিষ্টের জন্যই শোভনীয় এবং খোদার সঙ্গে এহেন বিদ্রোহ তোমার ক্ষেত্রেই মানায়। ৩৫ মানুষ কি (নির্ভয়ে থেকে) মনে করে নিয়েছে (সেদিন তার আমলের বদলা না দিয়েই) তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে ? ৩৬ (সৃষ্টির সূচনালগ্নে) সে কি তুচ্ছ এক বিন্দু পানি ছিল না ? ৩৭ অতপর সে মাংসপিন্ডে পরিনত হয়। তারপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। ৩৮ তারপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নরনারী (কোন প্রকার বৈজ্ঞানিক উপকরন ছাড়াই) ৩৯ (বিষ্ময়কর এতগুলো কর্ম সংঘটিত করার পরও) তিনি কি মৃত মানুষ পূনরায় জীবিত করতে অক্ষম ? সূরা কেয়ামাহ অতপর যখন কান ফাটানো (সেই ভয়ংকর) আওয়াজ (পৃথিবীর দিকে) আসতে থাকবে তখন মানুষ ভয়ে পালাতে থাকবে নিজের আপন ভাইয়ের কাছ থেকে (পালাতে থাকবে) তার মাতা, তার পিতা, তার স্ত্রী এবং ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে এমন চিন্তিত থাকবে যে, তাকে সে চিন্তা ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে (ফলে আপনজনকে পর্যন্ত মানুষ সেদিন ভুলে যাবে) সূরা আবাসা ৩৩-৩৭। যেদিন (মানুষ ৫০,০০০ বৎসরের) বিচারের লম্বা দিনটি দেখবে সেদিন মানুষ মনে করবে দুনিয়াতে তারা এক সকাল কিংবা এক সন্ধা অবস্থান করেছে মাত্র। সূরা আন নাযিআত ৪৬। যখন সূর্যকে গুটিয়ে ফেলা হবে। যখন নক্ষত্রগুলো আপন কক্ষপথ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পরবে। যখন পর্বত সমুহকে তার আপন স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যখন দশ মাসের গর্ভবতী উঠনিকে তার আপন অবস্থার উপর ছেড়ে দেওয়া হবে। যখন সকল প্রকার হিংস্র জন্তু জানোয়ারগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করা হবে। যখন সমুদ্রগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। সুরা আত তাকওয়ীর ১-৬। হে মানব সমপ্রদায়। আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কঠিন দিনের আশংকা করছি, যেদিন তোমরা পিছনের দিকে দৌড়ে পালাতে থাকবে কিন্তু (সেই ভয়ংকর মুহুর্তে) সেদিন তোমাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে (তার মন্দ কর্মের জন্য) পথভ্রষ্ট করে দেন তার জন্য দুনিয়াতে কোন পথপ্রদর্শক নেই। সূরা আল মুমিন ৩৩। সেদিন পৃথিবী রবের নুরে আলোকিত হয়ে যাবে। মানুষের আমলনামা উপস্থিত করা হবে। নবী রাসুল এবং সমস্ত স্বাক্ষীদেরও উপস্থিত করা হবে। সেদিন সকলের মধ্যে ন্যয় বিচার করা হবে। কাহারো প্রতি সামান্যতম যুলুম করা হবে না। সূরা আয-যুমার ৬৯। কেয়ামতের দিন (যারা দুনিয়াতে নামাজ আদায় করেনি তাদেরকে) সেজদা করতে বলা হবে অতপর তারা সেজদা করতে পারবে না, তাদের দৃষ্টি থাকবে সেদিন লজ্জায় অবনত, তারা হবে (কঠিন) লাঞ্চনাগ্রস্ত। অথচ তারা যখন সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল তখন তাদেরকে সেজদার জন্য আহবান করা হত। সূরা আল কলম ৪২,৪৩। যখন মহা বিপর্যয় এসে পরবে তখন মানুষ তার কৃতকর্ম স্বরণ করতে থাকবে, সেদিন জাহান্নাম সকলের সম্মুখে উপস্থিত করা হইবে তখন যে ব্যক্তি (পাপ কর্মে) সীমালংঘন করেছিল এবং (আল্লাহকে ভুলে) দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের উপর প্রধান্য দিয়েছিল তার চূরান্ত আবাস্থল হবে জাহান্নাম। সূরা আন নাযিআত ৩৪-৩৯। যখন আকাশ ফেটে পরবে। যখন মহাকাশের নক্ষত্রগুলো ঝরে পরবে। যখন সমুদ্রগুলোকে (প্রচন্ড বিস্ফোরনের) মাধ্যমে উত্তাল করে তোলা হবে। যখন কবর সমুহ খুলে দেওয়া হবে। তখন প্রত্যেকটি মানুষ জেনে যাবে যে, সে (পরকালের জন্য) কি আমল পাঠিয়েছে এবং কি আমল সে পিছনে ফেলে এসেছে। সূরা আল ইনফিতার ১-৫। (বিচারের দিন) কেহ অনু পরিমান সৎকর্ম করে থাকলেও দেখতে পাবে এবং কেহ অনু পরিমান অসৎকর্ম করে থাকলেও দেখতে পাবে। সূরা যিলযাল ৭,৮। অতএব সেদিন যার (নেক আমলের) পাল্লা ভারি হবে সে নিরাপত্রার সঙ্গে শান্তিতে (জান্নাতে) বসবাস করবে এবং যারা (নেক আমলের পাল্লা) হালকা হবে তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। তুমি কি জান হাবিয়া কি ? প্রজ্জলিত (এক ভয়ংকর) অগ্নী। সূরা কারিয়া ৬-১১। সেদিন ফেরেস্তাগন মহান রবের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে যাবে। সেদিন করুনাময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন সে ছাড়া আর কেহই কথা বলতে পারবে না। সুরা নাবা ৩৮। সেদিন ভুকম্পনের মাধ্যমে পৃথিবীকে প্রচন্ড এক ঝাকুনি দেওয়া হবে। অতপর সাথে দ্বিতীয় আরেকটি ঝাকুনি দেওয়া হবে। ভয়ংকর এই দৃশ্য দেখে সেদিন মানুষের অন্তর সমুহ কাপতে থাকবে। সেদিন সবার দৃষ্টি থাকবে নিচের দিকে। সূরা নাযেআত ৬,৭,৮,৯। অবশ্যই তা হবে বড় ধরনের এক গর্জন। এ গর্জনের ফলে মানুষ কবর থেকে উঠে দাড়িয়ে যাবে। সুরা নাযেআত ১৩,১৪। যখন মানুষের আমলনামা খুলে দেওয়া হবে। যখন আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হবে। যখন জাহান্নাম প্রজ্জলিত করা হবে এবং জান্নাতকে সবার সামনে উপস্থিত করা হবে তখন মানুষ জানতে পারবে সে কি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সুরা আত তাকওয়ীর ১০-১৪। যখন আসমান ফেটে পড়বে। যখন নক্ষত্রগুলো তার আপন কক্ষপথ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। যখন সমুদ্রগুলোকে উত্তাল করে তোলা হবে। যখন কবগুলোকে উপড়ে ফেলা হবে। তখন প্রত্যেকটি মানুষ জেনে যাবে আসলে এই ভয়ংকর দিনের জন্য সে দুনিয়ায় কি আমল করে এসেছে। সূরা এনফেতার ১-৫। সেদিন কোন মানুষই এক জন অন্য জনের কোন উপকারে আসবে না। সূরা এনফেতার ১৯। সেদিন ভুমন্ডলকে সমপ্রসারিত করা হবে। মুহুর্তের মধ্যে সে তার ভিতরের সকল বস্তু ফেলে দিয়ে খালি হয়ে যাবে। সুরা আল এনশেকাক ৩, ৪। সেদিন যার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে তার হিসাব সহজ হবে। আর যার আমলনামা পিছন থেকে দেওয়া হবে সে (শাস্তী আসন্ন) দেখে মৃতু্যকে ডাকতে থাকবে। আর সে গিয়ে পরবে জলন্ত অগ্নীতে। সুরা আল এনশেকাক ৭-১২। বস্তুগত সম্পদকে তোমরা অনেক ভালবেসে থাক। কখনো নয় ! যেদিন (এক ভয়ংকর ভুমিকম্পের মাধ্যমে) পৃথিবীকে চুর্ণ বিচুর্ণ করা হবে। (সাত আকাশ ছিন্ন ভিন্ন করে) অতপর তোমাদের প্রভু উপস্থিত হবেন আর ফেরেস্তা সারিবদ্ধ হয়ে তোমাদের প্রভুর সামনে দাড়িয়ে যাবে। তখন জাহান্নামকে অপরাধিদের সামনে নিয়ে আসা হবে। সেদিন মানুষ তার পাপকর্মের পরিনাম বুঝতে পারবে কিন্তু তখন এই বোধোদয় কি কাজে আসবে। সুরা আফ ফজর ২০-২৩। সেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর খবর নিবে না অথচ একজন অন্যজনকে সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাবে। সেদিন অপরাধী ব্যক্তিগন শাস্তি থেকে নিজেদের বাচাতে মুক্তিপন সরূপ প্রয়োজনে নিজেদের পুত্রদের দিতে পারলেও দিতে চাইবে ! দিতে চাইবে নিজের স্ত্রী ও নিজের ভাইদেরকে এবং দিতে চাইবে পরিবারের এমন আপন লোকদেরকেও যারা জীবনভর তাকে আশ্রয় দিয়েছিল ! এমনকি সে যদি পৃথিবীর সকল ধন ভান্ডারের মালিকও হয়ে থাকে তবুও সে সকল ধন ভান্ডার দিয়ে হলেও নিজেকে সেদিন আযাব থেকে বাচাতে চাইবে ! সুরা আল মাআরেজ ১০-১৪। সেদিন প্রজ্জলিত জাহান্নাম এমন সব লোককেও কাছে ডাকবে যারা দুনিয়াতে সম্পদ (মানব কল্যান মুলক কাজে ব্যয় না করে) জমা করে রাখত। সুরা আল মাআরেজ ১৮ সেদিন যখন মানুষ কবর থেকে উঠে দাড়াবে তখন তারা অত্যান্ত দ্রুত গতিতে কোন (লক্ষস্থল ছাড়াই অনর্থক) দৌড়াতে থাকবে। সুরা আল মাআরেজ ৪৩। যেদিন আকাশের নক্ষত্রগুলো আলোহীন করে দেওয়া হবে। যেদিন আকাশ ফেটে যাবে। যেদিন পাহাড়গুলোকে ধুলার মত উড়িয়ে দেওয়া হবে। যখন নবী রাসুলদেরকে এক জায়গায় সমাবেত করা হবে। কোন একটি বিশেষ দিনের জন্য এই কাজটি স্থগিত রাখা হয়েছে। (হা) চুরান্ত ফায়সালার দিনের জন্য। সুরা আল মুরসালাত ৮-১৩।

Comments 2


nice post sir..notun kisu janlam
Thanx
Copyright © 2025. Powered by Intellect Software Ltd